Hindu Sele Muslim Meye | True Love Stories

Sharing is caring!

Hindu Sele Muslim Meye | True Love Stories; এখন আর কেউ তাকে বিশ্বাস করেনা সবাই এড়িয়ে যায় তার কাছে আর কেউ কোন কিছু বানাতে ইচ্ছা প্রকাশ করে না, দিন দিন তার ব্যবসা কমে যাচ্ছে, দুচোঁখে ঘুম নেই ধার-দেনা বেড়েই চলেছে নুর ইসলাম কিছুই বুঝতে পারছে না এখন সে কি করবে, দোকান ভাড়া, সংসার এখন কিভাবে ম্যানেজ করবে, তার সাথে বউ-মেয়ের চাহিদা, তার মনে নানান প্রশ্ন আসতে শুরু করলো. কারো কাছে বলতে পারছে না, আবার নিজেকেও বুঝাতে পারছে না, কারণ, সর্ষের মধ্যেই ভূত।

Hindu Sele Muslim Meye | True Love Stories

এখনতো মাঝে মাঝে নুর ইসলাম নেশা করে বাড়ি ফিরে বউ এর সাথে কথা কাটাকাটি হয়, কিন্তু কেন? এরকম তো আগে ছিলনা নুর ইসলাম ভালবেসে বিয়ে করেছিলো আর এর জন্য নুর ইসলাম কে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তার মা-বাপ কে চিরকালের মতো ত্যাগ করে নিজের ধর্ম চেঞ্জ করেছে, বাড়ি-ঘর জায়গা সম্পত্তি সবকিছু পর করে মায়া কে করেছে আপন আর কিভাবে বুঝাবে তার ভালোবাসা কত গভীর সে কতটা মায়া কে চায়।

নুর ইসলাম কে? মায়ার সাথে কিভাবে বিয়ে হয়েছিল?

Hindu sele muslim meye, টাঙ্গাইল জেলা, বাসাইল থানা, কাঞ্চনপুর গ্রামে হিন্দু পরিবারে নুর ইসলাম এর বসবাস বাপ-মা নাম রেখেছিল “বালি” বালি কুমার, অল্প শিক্ষিত বালি কুমার কাজ শিখতে শহরে গেলো, কাজ শিখে ফিরে এসে গ্রামের ছোট বাজারে দোকান খুলে বসলো, তার কাজ ছিল স্বর্ণ-রুপার হাতের কাজ অনেক ভালো ছিলো, গ্রামের বেশিরভাগ মেয়েরা বালি কুমার এর দোকানে স্বর্ণ-রুপার কাজ করাতো।

মায়ার বাড়ি বাজারের পাশে মায়া সব বান্ধবীদেরকে নিয়ে আসতো বালি কুমার এর দোকানে এবং বান্ধবীদের সাথে মায়া নিজে আসতো, মায়া দেখতে অনেক সুন্দর ছিল যেমন তার গায়ের কালার তেমনি নম্বা-চওড়া এবং দেহের গঠন ছিল জিভে জল আসার মত, বালি কুমার মায়ার প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পরলো এভাবে কেটে গেল কয়েকটি মাস-বছর।

বালি নিজেকে আর সামলাতে পারছে না মায়াকে না বলতে পারলে বালির মন যেন কোন ভাবেই শান্ত হচ্ছে না, মায়া মুসলিম ঘরের মেয়ে যদি আমার প্রস্তাব অস্বীকার করে? এসব বেবে বালি অনেক দূরচিন্তায় পড়ে গেল। গ্রামের কিছু বকাটে ছেলে-পেলে মায়ার সাথে টাংকি মারে এসব দেখে-শুনে বালি আর নিজেকে সামলাতে পারে না, মনে মনে সিদ্ধান্ত নাই যা হবার হবে মায়াকে বিয়ে করবো, কিন্তু, আমি তো হিন্দু আমার সাথে কি মায়াকে বিয়ে দিবে?

সব ভেবে এক মুরুব্বী কে পাঠালো মায়ার বাপকে বলতে তাদের বিয়ের কথা, মুরুব্বী সবশুনে মায়ার বাপকে বলতে চলে গেলো মায়াদের বাড়িতে, মুরুব্বী মায়ার বাবা-মা কে বেশ করে বোঝালো। মাইয়ার বাপ-মা সব শুনে বললো – সবই তো বুঝলাম ভাই! মেয়ে বড় হইছে বিয়ে দিতে হইব ছেলেও ভালো কর্ম নিজেস্ব দোকান-পাঠ আছে তাহলে আমারতো আপত্তি থাকার কথা নয়, তবে ছেলে তো হিন্দু ঘরের আর আমি কিভাবে হিন্দু ছেলের সাথে আমার মেয়ে বিয়ে দেই একজন মুসলমান হয়ে আমি তো আমার মেয়েকে হিন্দু ছেলের সাথে বিয়ে দিতে পারি না। তবে হ্যাঁ, যদি বালি কুমার মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি থাকে তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই।

বালি এখন কি করবে? Hindu Sele Muslim Meye | True Love Stories

গ্রামে জানাজানি হয়ে গেল বালি কুমারের বিয়ের কথা, বালির ফ্যামিলি বালিকে ডেকে পাঠালো, বাড়িতে যাওয়ার পর বালির ফ্যামিলি বালির সাথে যা তা ব্যবহার করা শুরু করলো… ভীষণ রাগ করলো বালির বাবা-মা. বালি কোন কথা বলে না শুধু চুপ করে শোনে, অবশেষে বালির ‘মা’ যখন বালি কে বলল ওই বাজারে আর তোকে দোকান করতে হইবো না, তুই ওখান থেকে চলে আয় আমি তকে ভাল দেখে বিয়ে করাবো। এ কথা শুনে বালি খুব উচ্চ স্বরে বললো বিয়ে করলে আমি ওকে করব।

বালির বাবা বালির দিকে এসে বলল তবে কি তুই বাপ দাদার ধর্ম রেখে ওই মেয়ে কে বিয়ে করার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাস? বালি উত্তরে বললো দরকার হলে তাই করবো তবুও আমি ওই মেয়েকে বিয়ে করবো। এই শুনে বালির বাবা ইয়াবড় এক রামদা হাতে নিতে দেখে বালি দৌড়ালো, বালির বাবা সাব সাব বলে দিল, ধর্ম চেঞ্জ করলে আমার জায়গা সম্পত্তি থেকে তোকে ত্যাজ্য করলাম আমার বাড়িতে আর কোনদিন আসবি না।

বালি কোন কথা না বুঝে-শুনে মায়াদের বাড়িতে চলে গেল মা আর বাবাকে বললো আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, মেয়ের বাবা বালি কে অনেকবার বুঝালো শুধুমাত্র মেয়েকে বিয়ে করার জন্য যদি ধর্ম চেঞ্জ করতে চাও তাহলে এটা ঠিক হবে না, যদি তোমার মন থেকে না চায়। বালি সব ভেবে বললো না আপনি এরকম মনে করবেন না আমি সৎ ইচ্ছাই সৎ জ্ঞানে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, আপনি আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য সব ব্যবস্থা করুন।

কারণ আপনি ছাড়া আমার আর কোনো অভিভাবক নেই। এই শুনে মেয়ের বাবা বালিকে নিয়ে গেল মসজিদের ইমামের কাছে এবং বালিকে কালেমা পড়িয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান এবং তার নাম বালি থেকে নুর ইসলাম, এখন তাকে নুর ইসলাম বলে সবাই জানে। তার বেশ কিছুদিন পর মেয়ের বাবা মায়াকে নুর ইসলামের হাতে তুলে দিলো এবং নুর ইসলাম মায়াকে বিয়ে করে ঘরে তুলে আনলো।

মায়ার সুখের সংসার, Hindu Sele Muslim Meye | True Love Stories

বাপ-মা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, আত্মীয়-স্বজন এখন সব পর হয়ে গেছে, বউকে নিয়ে কোথায় যাবে নুর ইসলাম? নিজের কোন বাড়ি ছিলোনা নুর ইসলাম এর যে বাড়িতে মায়া কে নিয়ে থাকতে পারবে। নিজের দোকানে নুর ইসলাম থাকতো সেখানেই এখন মায়াকে নিয়ে ঘর করতে লাগলো নুর ইসলাম।

বেশ সুখেই ছিল নুর ইসলাম তার বউকে নিয়ে, সুখে শান্তিতে দিন কাটতে লাগলো দুজনের। নুর ইসলাম তার বউকে খুব ভালোবাসতো কখনো চোখের আড়াল হতে দিতো না, সময় পেলেই মায়াকে এদিক-সেদিক বেরাতে নিয়ে যেতো, কোনদিন মায়ার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতো না। মায়ার সব ইচ্ছে পূরণ করার চেষ্টা করত নুর ইসলাম মায়ার মুখ কখনো বার হতে দিতো না।

একদিন নুর ইসলাম খুব হাসি মুখে মায়া কে বলল অনেক বড় কাজ পেয়েছি তিন তিনটে বিয়ে বাড়ির গহনা বানাতে হবে, আমি অনেক ব্যস্ত থাকব কয়েকদিন তুমি চাইলে তোমার বাবা-মা দের সাথে থাকতে পারো, কেননা আমি তোমাকে বেশি সময় দিতে পারবো না।

এই শুনে মায়া বললো, আমার কোন সমস্যা নেই আমি এখানে থাকবো তোমার সাথে এবং কথা দিলাম তোমাকে বিরক্ত করব না, তোমার কাজ তুমি ঠিকমতন করবে এবং তোমার কথা রাখার চেষ্টা করবে, যাতে মানুষ না বলতে পারে তোমার কথার কোন দাম নেই। নুর ইসলাম সব শুনে মুচকি হেসে মায়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু খেলে বলল তুমি আমাকে এত ভালোবাসো।

সুখের ঘরে এখন দুঃখের আগুন

মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি সুখ বেশিদিন কপালে শয়না, মায়ার জীবনে নেমে এসেছে কালো মেঘ, কি করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে মায়া? কিছু বুঝতে পারছেনা, বাবা-মাকে বলবো! কিন্তু তারা কি করবে তাদের কাছে কি আর এত টাকা আছে এই ক্ষতি পূরণ করতে পারবে। ভাই যে এমন কেন করলো? নুর ইসলাম এসে মায়াকে ডেকে বললো, তোমার ভাইয়ের কোন খবর পেয়েছো? মায়া বললো এখনো পাইনি! তাহলে এখন কি করবো কেউ তো আমার কোন কথা শুনতেই যাচ্ছে না, তাদের কি করে বোঝাই বলতো? এই বলে না খেয়ে বেরিয়ে গেল নুর ইসলাম।

রাতে নুর ইসলাম বাড়ি ফিরে আসার পর, মায়া জিজ্ঞেস করল কোন উপায় হয়েছে? নুর ইসলাম বললো না, কিভাবে হবে বলতো! এতগুলা টাকা কে আমাকে দিবে, এর আগেও অনেক টাকা ঋণ করে রেখেছি তাও তোমার ভাইয়ের জন্য, এইবার 10-20 নয় 4 লক্ষ টাকা তোমার ভাই দোকান থেকে কিভাবে নিতে পারলো! এত টাকা কে দেবে আমাকে? সে কি মনে করে আমার কাছে কোটি কোটি টাকা আছে, সে কিছুটা নিয়ে খরচ করলে আমার কিছুই হবে না।

মায়ার চোখে জল, মায়া হু হু করে কেঁদে উঠলো আর বলতে লাগলো পর মানুষ নয় নিজের ভাই আমার সুখ শান্তি চুরি করে নিয়ে গেল, কয়লা বানিয়ে দিয়ে গেল আমার জীবনটা। তোমার মত ভাই যেন আর কারো বোনের না হয় তাহলে তার কপাল আমার মতই পড়ে যাবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply